জাতীয় কবিতা মঞ্চের উদ্যোগে আমিরাতের ৪৮তম জাতীয় দিবস উদযাপন

আরব আমিরাত প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্ধুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ,জাতীয় কবিতা মঞ্চ, সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আরব আমিরাত এর ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়। গত ২ডিসেম্বর সোমবার বিকাল ৩টা আবুধাবি ফর্মাল পার্কে।

সংগঠনের সভাপতি কবি কলামিস্ট মুহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি ও সাংবাদিক মনির উদ্দিন মান্না।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আধুনিক আরব আরব আমিরাত এর প্রতিষ্ঠাতা প্রথম রাষ্ট্রপতি,প্রকৃত জনদরদী, দেশী বিদেশী সকল মানুষের ভালোবাসার প্রতিক, শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এর প্রতি গভীর বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জাতীয় দিবস উদযাপনের নানা অনুষ্ঠানমালায় স্থানীয় আরবীদের সঙ্গে পাল্লা রেখে আবুধাবী ফর্মাল পার্কে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কবি, লেখক, ছড়াকার, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের অংশ গ্রহণে বর্ণিল হয়ে উঠে কেক কাটা,কবিতা আবৃত্তি, কবিদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজ, স্বাধীনতার আলোচনা সভা,যেমন খুশি তেমন সাজ, বর্ণিল জামা কাপড় পরিধান,চা চক্রের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় কবিতা মঞ্চের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল সুমাইয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান, মীরসরাই সমিতির সভাপতি, শিল্পপতি ও মানবতার কবি ফখরুল ইসলাম খান সি আই পি। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় কবিতা মঞ্চের প্রধান উপদেষ্টা, আবুধাবি শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপাল,শিক্ষাবিদ কাজী আবদুর রহিম,বিশেষ অতিথি ছিলেন রত্ন গর্ভা মা সুদূর বাংলাদেশ থেকে আগত ফেরদৌস আরা বেগম লায়লা, সাহিত্য বিষয়ক উপদেষ্টা, ইংরেজি সাহিত্যিক ডাঃশেখ শামসুর রহমান পিএইচডি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা, বিশিষ্ট ব্যাংকার ও লেখক মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন ভূঁইয়া, কথা-সাহিত্যিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম সাইফ, আক্তার উদ্দিন পারভেজ, নারীনেত্রী মিসেস ফরিদা পারভিন,কবি নাবিলা আলী মাহি চৌধুরী,লেখিকা শারমিন আক্তার জেলী সহ প্রমুখ।

আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবিতা মঞ্চের সিনিয়র সহ সভাপতি কবি মির্জা মোহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক তরুণ কবি মোহাম্মদ আরাফাতুর ইসলাম চৌধুরী, কবি আল আমিন জয়, বাবু দীপক চন্দ্র দাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন – ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ব্রিটিশদের সীমানা নির্ধারণের মধ্যদিয়ে রক্তপাত স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৪ দিনের ব্যবধানে এক কালের মৎস্য-খেঁজুরের দেশ নামে খ্যাত সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বাধীন হলেও দেশটি অনেক এগিয়ে গেছে। মেধা-শ্রম ও সততা দিয়ে বিশ্ব দরবারে দেশটি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। দেশটি স্থাপনা, অবকাঠামো ও নিরাপত্তার দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে।

জাতীয় দিবস উদযাপনে দেশীয় জাতীয় কবিতা মঞ্চের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। প্রবাসীদের আশা প্রবাস বান্ধব সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আরেকটু আন্তরিক হলে শিগগিরই আমিরাতে বন্ধ ভিসা ও ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ উন্মুক্ত হবে। সামাজিক এসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বন্ধন মজবুত হয়। অন্যদিকে প্রবাসের মাটিতে ভিনদেশীদের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আমাদের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে মেধা-যোগ্যতা ও সততা দিয়ে এখানে স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে। আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশর সুনাম, আস্থা, তথ্য প্রযুক্তি, মেধা ও জ্ঞান নির্ভর কমিউনিটি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠুক বাঙালি জাতি। এটা সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক একটি সংগঠন। বিদেশ বিভুঁইয়ে আমরা সবাই সবার জন্য। ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন সত্তা ও মতভিন্নতা নিয়ে বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষই ভিন্ন মেজাজ মর্জির। তবে, আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ আমাদের ধর্ম-বিশ্বাস, দল বা মতাদর্শ যাই থাকুক না কেন, আমরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ভালোবাসায় আবদ্ধ।একটা কথা মনে রাখতে হবে এইটা আমাদের দেশ নয় এদেশের আইন কানুনের কথা সব সময় মাথায় রেখে শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা দল মত নির্বিশেষে একসাথে কাজ করলে আমিরাতে আমাদের বাংলাদেশিদের ইমেজ সংকট আরো কাটিয়ে উঠতে পারবো।

অনুষ্ঠানে আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত তরুন কবি ও সাংবাদিক, বিশিষ্ট ব্যক্তি, সংস্কৃতিককর্মী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক কবিতা প্রেমী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত কবিরা বিজয়ের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে রাখেন।

আরো পড়ুন