জলাবদ্ধ রাস্তায় খানাখন্দে ভরা: রুগী সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছে না হাসপাতালে

নিলয় ধর, যশোর প্রতিনিধি:-
যশোরে ভবদহ জলাবদ্ধ রাস্তায় দুর্ভোগ চরমে। এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এ জলাবদ্ধতায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। বেশ কিছু রাস্তা এখনও তলিয়ে আছে ভবদহ অধ্যুসিত জলাবদ্ধ অঞ্চলে। এই সকল রাস্তায় চলাচল করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। দূর্ভোগের আর এক নাম হয়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধ সড়কগুলো। প্রতিনিয়ত এসকল সড়কে ঘটছে দূর্ঘটনা। হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে সড়কগুলোতে।
জানা যায় , অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া-মশিয়াহাটী রাস্তার সরখোলা নামক স্থানে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা,  এখনো অল্প জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে পথাচারীদের রাস্তায় দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। অসুস্থ রুগীদেরও সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এই রাস্তায় কারণে।ভুক্তভোগীরা জানান, এখানে প্রায়ই মোটর সাইকেল উল্টে পানির মধ্যে পড়ে যায়।
 সরজমিনে সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়,সরখোলা রাস্তায় এ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে আছে।প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাবু লক্ষণ চন্দ্র ধর   অসুস্থ হয়ে  পড়ায় তাকে আনতে যাওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন, কিন্তু রাস্তায় আটকে পড়ায় এ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি।পরে অন্য একটি এ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার হয় হাসপাতালে। এখনে নিদিষ্ট সময়ে এ্যাম্বুলেন্স না আসার ফলে রুগীর দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো।
এই রাস্তায় এখনও  পানি রয়েছে। মটর সাইকেল চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। ইজি বাইকের যন্ত্রাংশ ক্ষতি হওয়ার ভয়ে ভয়ে পার হতে হচ্ছে।
এই সময় কথা হয় রাস্তায় আটকে যাওয়া এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার আনিসুর তিনি বললেন, রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর পানির মধ্যে এসব গর্ত দেখতে না পাওয়ার করণে গাড়ী এই রাস্তায় জলের মধ্যে আটকে পড়েছি। ভুক্তভোগীরা জানান, আধা কিলোমিটার রাস্তা পার হতে প্রায় আধা ঘন্টা সময় লাগছে৷
এই ব্যাপারে মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় বলেন, ভবদহ অঞ্চলের সকল রাস্তা উঁচু করে নির্মান করতে হবে। এবং রাস্তার দুইধারে গাইডওয়াল নির্মাণ করতে হবে।তাহলে জলাবদ্ধতার হাত থেকে এই সকল রাস্তা রক্ষা করা সম্ভব হবে। এব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, ওই রাস্তার ইস্টিমেট পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন পেলে রাস্তা নির্মান করা হবে। আর সরখোলা নামক স্থানে ব্রিজের সমান উঁচু করে রাস্তা করা হবে।
এই দিকে- ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ। তাদের একটায় দাবি, আমডাঙ্গা খাল থেকে ব্লক অপসারণ করে পানির গতি বৃদ্ধি করলে বেচেঁ যাবে পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার।
খালের বাস্তব চিত্র দেখে পানিবন্দি ওই মানুষের কপালে ভাঁজ পড়ে। সামান্য কয়েকটি ব্লক যা খালটির তলদেশ ও দুই পাশ সরু করে পানির গতিকে বাধাগ্রস্থ করছে।এই সামান্য কয়েকটি ব্লকের জন্যে পানিবন্দি রয়েছে ভবদহ এলাকার হাজার হাজার পানিবন্দি পরিবার। অবস্থা নিজেদের ধরে রাখতে না পেরে খালের মধ্যে নেমে পড়েন অনেকে। কয়েকটি ব্লক অপসারণ করতেই পানির গতি বৃদ্ধি পায়।
এমনকি ভৈরব নদের পানির চেয়ে জলাবদ্ধ ওই সব বিলের পানি প্রায় ৪ থেকে ৫ ফুট উঁচু। সকলের সামনে পরিস্কার হয়ে যায় খালটি পরিস্কার করতে পারলে অল্প সময়ের ব্যবধানে কমে যাবে ওই সব বিলের পানি।চলতি বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করে কিছুটা সামলে নিতে পারবে কৃষি ও মৎস্যজীবি পরিবারগুলি।
আমডাঙ্গা খালে আবারও ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন সরকার। যে টাকা দিয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কের ব্রিজ থেকে বিল ঝিকরা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার খাল পুন: সস্কার করার জন্য সরকারের কাছ থেকে এ টাকা বরাদ্দ নিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু আমডাঙ্গা খাল উন্নয়ন ও ভবদহ পানি নিষ্কাশন কমিটি বলছেন, ভুল পথে হাটছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতি বছর এভাবে গচ্ছা দেওয়া হচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ। তারা জানিয়েছেন ‘দাদার কবর কোথায় আর দাদি কাঁদছে কোথায়?।  তাদের দবি, যশোর-খুলনা মহাসড়ক থেকে বিল ঝিকরা পর্যন্ত খালে পর্যাপ্ত পানির গতি রয়েছে। যেখানে আপাতত পুন: খনন করার কোন প্রয়োজন নেই।
আরো পড়ুন