চরফ্যাশন সিটি হার্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের নিন্দা

আমিনুল ইসলাম, চরফ্যাশন প্রতিনিধি৷৷

ভোলার চরফ্যাশন সদরে অবস্থিত সিটি হার্ট হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ প্রতিহিংসার বসত সংবাদকর্মীদের ভুল বুঝিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে৷ এ অপপ্রচারের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

জানা যায়, গত সোমবার নুরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ শরিফের স্ত্রী গর্ভবতী ফাতেমা বেগম (২৩) গুরুতর অসুস্থ হয়ে সিটি হার্ট হাসপাতালে রাত ১১টার দিকে আসেন৷ ডাক্তার মরিয়ম আক্তার সোনিয়া রুগীকে চেক আপ রুমে নিয়ে দেখলেন মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে৷ কারন জানতে চাইলে রুগীর সাথে থাকা লোকজন বলেন, স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার রোগীকে ৪টি সাইটোমিস-২০০ এমজি টেবলেট ও ২টি লিন্ডা ডিএস ইনজেকশন পুষ করেছেন৷ পুষ করা মাত্রাতিরিক্ত ঔষধের প্রভাবে রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রামে বাচ্চার কোনো নড়াচড়া ও হার্টবিট না পাওয়ায় ডাক্তার রোগীর গর্ভে থাকা শিশুকে মৃত ঘোষনা করেন এবং তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন৷ তখন রোগী চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরের দিন বেলা ৩টায় এ্যাম্ভুলেন্স যোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে গাড়িতেই জীবিত এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন সেই মা৷ ঔষধের প্রভাবে এমন ঘটনা হতে পরেন বলে জানিয়েছেন সিটি হার্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

বিষয়টি নিয়ে সিটি হার্ট হাসপাতালের ম্যানেজার মনিরুজ্জামান মনির জানান, ডাক্তার মরিয়ম আক্তার সোনিয়া দীর্ঘ দুই বছর যাবত এ হাসপাতে সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে৷ এখন পর্যন্ত ম্যাডামের নামে কেউ কোন অভিযোগ দিতে পারেনি৷ এটা সইতে না পেড়ে নামসর্বস্ব একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চক্রান্ত করে এ অভিযোগ চালাচ্ছে৷

অভিযুক্ত ডাক্তার মরিয়ম আক্তার সোনিয়া জানান, কোন গর্ভবতী মা যখন আমাদের কাছে এসে বলেন, গর্ভে আমার বাচ্চাটা নড়ছে না এবং সাথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে তখন আমরা তার পেটে স্টেথিস্কোপ বসিয়ে দেখি বাচ্চার হার্টবিট বাড়ছে কিনা। যদি আমরা দেখি বাচ্চার হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছে না তখন আমরা মাকে একটা আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে পাঠাই। যদি রিপোর্টে এমনটি পাই যে, বাচ্চার কোনো নড়াচড়া নেই এবং বাচ্চার হার্টবিটও পাওয়া যাচ্ছে না তখন মেডিক্যাল সায়েন্সের ভাষায় আমরা প্রাথমিক ভাবে ধরনা করি গর্ভের সন্তান মৃত৷ সাথে সাথে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করে থাকি৷ এমতাবস্থায় মা কিছুটা সুস্থ হলে আস্তে আস্তে পেটের বাচ্চা স্বাভাবিক হয়ে পুনরায় নড়াচড়া শুরু করে এবং জীবিত শিশু প্রসব করে৷ এই গর্ভবতী মায়ের একই ঘটনা ঘটেছে৷ এর কারন হিসেবে দেখা যায়, গর্ভবতী ফাতেমাকে স্থানীয় এক গ্রাম্য ডাক্তার মাত্রাতিরিক্ত ঔষধ প্রয়োগ করায় পেটের বাচ্চার উপর এর প্রভাব পরেছে৷ এ নিয়ে আমার উপর দোষ চাপানোর কিছুই নেই৷

ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম এর পরিবার বলেন, এ ঘটনায় আমারা কারো নিকট কোন অভিযোগ করিনি এবং কোন ডাক্তার বা হাসপাতালকে দায়ী করছিনা৷ আল্লাহ আমাদের জীবিত একজন পুত্র সন্তান দান করেছেন এটাই আমাদের বড় পাওয়া৷

আরো পড়ুন