চরফ্যাশন থানা পুলিশের বিরুদ্ধে জমি দখলদারের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ

চরফ্যাশন প্রতিনিধি৷৷ ভোলার চরফ্যাশন থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে জমি দখলদারদের গ্রেফতার না করে তাদের পক্ষে অবৈধ জমির উপর পাকা ঘর নির্মাণ করতে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জমির মালিক মোঃ আবুল কালাম৷

বৃহস্পতিবার ২৯ এপ্রিল দুপুর ১২টার সময় মোঃ আবুল কাশেম এর স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ পত্রে থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷

অভিযোগ পত্রে লিখেছেন যে, আমি মোঃ আবুল কালাম পিতা- মৃত দানু মিয়া জানাচ্ছি যে, অজ্ঞাত কারনে ভোলার চরফ্যাশন থানা পুলিশ থেকে কোনপ্রকার আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করছি৷ আমাদেরকে সহায়তা না দিয়ে আমাদের জমি দখলদারের পক্ষ নিয়ে আসামি না ধরে অবৈধ জমির উপর পাকা ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন চরফ্যাশন থানা পুলিশ৷ আমি আরও বলতে চাই চরফ্যাশন উপজেলা ওমরপুর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড (সাবেক আছলামপুর) আলীগাঁও গ্রামে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় আঃ আলী হাওলাদার গং আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ৩ একর জমির মধ্যে জোরপূর্বক ১শ শতাংশ জমি রাতের আঁধারে জবরদখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছে৷ জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টায় আবুল কালাম বাদী হয়ে ৫জনকে আসামি করে চরফ্যাশন আদালতে মামলা দায়ের করেন৷ আদালত উক্ত জমির উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন৷ যা এখনো চলমান রয়েছে৷ অথচ আসামি পক্ষ চরফ্যাশন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনির হোসেন মিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত সোমবার ২৬ এপ্রিল থেকে পুনরায় পাকা স্থাপনার কাজ শুরু করছেন৷ আমাদের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করলেও কাজ বন্ধ বা আসামি গ্রেফতারের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না চরফ্যাশন থানা পুলিশ৷ মহামারি করোনার কারনে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ আছে তার উপর চরফ্যাশন থানার এমন অসহযোগিতা মূলক আচরণে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি৷ আমাদের পরিবারের কেউ বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডে কেউ আবার ঢাকায় সপরিবারে অবস্থান করছি৷ এ সুযোগ নিয়ে চক্রটি আমাদের জমি দখলের সুযোগ পেয়েছে৷ স্থানীয় প্রতিনিধি থেকে শুরু করে থানা পুলিশ এর নিকট অসংখ্য বার অভিযোগ করলেও অজ্ঞাত কারণে কোন বিচার এখনো পাইনি৷ আমরা অভিযোগ করার পারে থানার ওসি মনির হোসেন এসআই জাহিদ হাসান কে দায়িত্ব দিয়ে বলেছেন, আসামি পক্ষ পুনরায় বাড়ি নির্মাণের কাজ করলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসতে৷ কিন্তু গতকাল রাত ৮টার সময় ৮/১০ জন রাজমিস্ত্রী সহ কাজ শুরু করলে থানার ওসি ও দায়িত্ব দেয়া এসআই জাহিদ হাসান কে অবহিত করলে দেখতেছি, আসছি বা পুলিশ পাঠাচ্ছি এমন করে আর ঘটনা স্থলে আসেনি৷ একপর্যায়ে ওসি ও এসআই কে আমরা অসংখ্য বার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করছিলোনা৷ এমন অবস্থায় আমরা সঠিক বিচার না পাওয়া এবং চরফ্যাশনে আসলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি৷

অভিযোগ প্রসঙ্গে চরফ্যাশন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনির হোসেন মিয়া বলেন, আমরা আসামিদের গ্রেফতার করলে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পুনরায় আবার নির্মাণ কাজ শুরু করবে৷ আমরা প্রতিনিয়ত ঘটনা স্থানে যাওয়া সম্ভব নয়৷ তারা আনসার বাহিনী নিয়োগ করুক অথবা নিজেরা চরফ্যাশনের জমিতে বসবাস করুক৷

আরো পড়ুন