চরফ্যাশন আহাম্মদপুরে পুলিশের এসআই সম্পত্তির লোভে ভাবিকে মারধর

চরফ্যাশন প্রতিনিধি৷

চরফ্যাশন প্রতিনিধি৷৷
ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা পুলিশের এসআই মোসলেউদ্দিন সহ তিন ভাই মিলে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মৃত বড়ো ভাই এর স্ত্রী সেতারা বেগম (৫৫) ও ভাতিজা রিয়াদ (২৩) কে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে৷ আহত মা ও ছেলে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন৷

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৭টার সময় আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড রাড়ি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়৷ আহত সেতারা বেগম মৃত তোফায়েল আহমেদ এর স্ত্রী ও রিয়াদ তার ছেলে৷

জানা যায়, মৃত তোফায়েল আহমেদ ছিলো পরিবারের বড়ো সন্তান৷ অভাবের কারনে নিজে পড়ালেখা না করে কাজ করে ছোট ভাইদের কে উচ্চশিক্ষিত করেছেন৷ মোসলেউদ্দিন পুলিশের এসআই, মোঃ ছাবের স্বাস্থ্য সহকারী এমন বাকি সকল ভাই ভালো অবস্থানে রয়েছে৷ ২০২০ সালের মে মাসে এসআই মোসলেউদ্দিন এর বড়ো ভাই তোফায়েল আহমেদ মারা যাওয়ার পর দুই ছেলে এক মেয়ে কে নিয়ে অভাবের কারনে বিপাকে পড়েন সেতারা বেগম৷ এমন সময় সেতারা বেগম এর শশুর থেকে ওয়ারিশ সুত্রে মালিক হওয়া জমি বুঝিয়ে না দিতে তালবাহানা শুরু করেন এসআই মোসলেউদ্দিন সহ অন্য ভাইয়েরা৷ জমি চাইতে গেলে মোসলেউদ্দিন, আলী ও সাবের আহাম্মদ মিলে মৃত বড়ো ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজা কে বাগা ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেন৷ সাথে অন্য ভাইয়েরা না পিটালেও লাঠি এনে দেন৷ স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করেন৷

আহত রিয়াদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর কাকারা মিলে আমাদেরকে জমি না দিতে মিথ্যা ভুয়া স্টাম্প তৈরি করে বলছে দাদা জমি তাদের নামে দিয়ে গেছেন৷ আমার দাদি বাবার পরে মারা যাওয়ায় তারা বলছেন দাদির ওয়ারিশ আমরা পাবনা৷ এমনকি আমার ফুফুদের সম্পত্তি পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে মামলা দায়ের করেছে৷ আমরা এর সঠিক বিচার চাই৷ পুলিশের এসআই হওয়ার আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখায়৷ আমার মাকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে আহত করেছেন তারা৷ আমাদেরকে না জানিয়ে ভাবি পরিচয় দিয়ে মোসলেউদ্দিন চরফ্যাশন হাসপাতাল থেকে আমার মায়ের ছাড়পত্র নিয়ে গেছেন৷ যাতে আমরা ডাক্তারি সার্টিফিকেট নিয়ে মামলা না করতে পারি৷ আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি৷

এবিষয়ে এসআই মোসলেউদ্দিন এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে ফোন রিসিভ না করায় জানা যায়নি৷

দুলার হাট থানা অফিসার ইনচার্জ এর সততা নিশ্চিত করে বেলেন আমরা শোনার পরে সে বাড়িতে গিয়েছি৷ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

আরো পড়ুন