চরফ্যাশনে কিশোর গ্যাং এর মূল হোতাকে আড়াল করতে মিথ্যা মামলা

চরফ্যাশন উপজেলা প্রতিদিন৷৷

চরফ্যাসনে কিশোর গ্যাং গ্রুপের মুলহোতা বখাটে তানভীরকে আড়াল করতে উল্টো চরফ্যাশন সরকারি টিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন সাধারন শিক্ষার্থীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন তানভীরের পরিবার৷

 

শনিবার (২২মে) তানভীরের চাচা ইলিয়াছ হোসেন জুয়েল বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় এই মামলা দায়ের করেন৷ মামলা নং ৭৮/২০২১(চর)৷

 

জানা যায়, আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন রাসেলের ছেলে তানভীর ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রায়হান আল রাজ্জাকের ভাগ্নে  মাসফিকুর রহমান নিশাত চরফ্যাসনে কিছু বখাটে কিশোরকে নিয়ে কিশোর গ্যাং চক্র গড়ে তুলেন। অনেক দিন যাবত চক্রটি চরফ্যাসন পৌর সদরে মারামারিসহ নানান অপরাধ কর্মকান্ডে চালাচ্ছেন।

 

গত ২০মে সাফাওয়াত, কায়েদ ফারহান, মোঃ রাতিন. তাহাছিন আবিদ, নাজমুল ইসলাম নাইম, মুজাহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. তামিমসহ কয়েক বন্ধুরা মিলে চরফ্যাসন সদরের টিবি স্কুলের পিছনে ঘুরতে গেলে বখাটে তানভীর ও মাসফিকুর রহামান নিশাত এলাকার প্রভাব বিস্তার করতে ওই সাধাররন শিক্ষার্থীদের টিবি স্কুল এলাকায় না আসার হুমকি ধামকি দেন। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক বাধে। তর্কের জের ধরে কিশোর গ্যাং চক্রের মুল হোতা তানভীর ও মাসফিকুর রহামান নিশাত ওই ৮ শিক্ষার্থীর ওপর অর্তকিত হামলা চালায়। সাধারন শিক্ষার্থীদের ওপর হামালার সময় নিজেদের গ্রুপের আঘাতে কিাশোর গ্যাং এর মুলহোতা তানভীর আহত হয়। এ সময় সাধারন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাফাওয়াত, কায়েদ ফারহানও আহত হন। অপর শিক্ষার্থী আহত সাফাওয়াত, কায়েদ ফারহানকে উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।

কিশোর গ্যাং চক্রের মুলহোতা তানভীর ও মাসফিকুর রহামান নিশাত সাধারন  শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে উল্টো নিজেরা হাসপাতাল ভর্তি হয়ে অপরাধ আড়াল করতে অপচেষ্টা চালিয়ে ৮ শিক্ষার্থীকে আসামী করে তাভীরের চাচা ইলিয়াছ হোসেন জুয়েল বাদী হয়ে চরফ্যাসন থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

 

এঘটনায় পুলিশ রবিবার সন্ধ্যায় মামলার ৬নং আসামী মুজাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তার সত্যতা না পাওয়ায় জামিন মুঞ্জুর করেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ১০ম শ্রেনীর  তানভীর ও মাসফিকুর রহামান নিশাত বিদ্যলয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক মুর্তিমান আতংকের নাম। ওই দুই শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে না এসে মাঝে মধ্যে স্কুলে এসে সাধারন ছাত্রের মারধোর ও ছাত্রীদের ইভটিজিং করে থাকেন। কিশোর গ্যাং এর মুল হোতা ভানভীর আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে হওয়ায় তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউই প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।

 

অভিযুক্ত তানভীরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তার বাবা সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন রাসেলকেও একাধিবার ফোন করে ও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

চরফ্যাসন থানার ওসি মোঃ মনির হোসেন মিয়া জানান, এঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলায় যদি কেউ নিরপরাধ আসামী হয়ে থাকে তাহলে মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হবে।

আরো পড়ুন