গভীর রাতে ত্রাণ নিয়ে এমপি শাওন গরীবের বাসায়, মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস ব্যাপক ভাইরাল

এ.এইচ রিপন লালমোহন(ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চাঁন মিয়া মাঝি বাড়ীর বৃদ্ধ সৈয়দ আহাম্মদ মাঝির বিধবা মেয়ে রিনা বেগম সরাসরি মোবাইলে ফোন করেন ভোলা ৩ আসনের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপিকে।

ভোলা ৩ আসনের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপির নিজস্ব ফেসবুকে মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস নিম্মে তুলে ধরা হলো।

রাত তখন ১২.০০ ঘটিকা…..
সারাদিন কর্মহীন ও দু:স্থদের মাঝে ত্রান বিতরণ করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমোতে যাবার উপক্রম। এমন সময় হটাৎ ফোন বেঁজে উঠল। রিসিভ করতেই ওপার থেকে কান্নার আর্তনাদ…..! স্যার, আমরা গরীব মানুষ। নদীপাড়ে খাস জায়গায় থাকি। সরকারী ত্রান যাহা পেয়েছি সবই শেষ হয়ে গেছে। আজ ২-৩ দিন যাবৎ আমরা না খেয়ে আছি। ঘরের বাচ্চাটি কান্নাকাটি করতেছে। আমরা এখন কি করব স্যার? কি খেয়ে রোজা রাখব?

কথাগুলো কান দিয়ে শ্রবণ করলেও আমার ভেতরটা জ্বলে পূড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। আবার ফোন করলাম সেই নাম্বারে। ফোন দিয়ে ওর সাথে কথা বলে কিছু ত্রাণ নিয়ে ছুটলাম নদীপাড়ের দিকে। কিছুদুর যাবার পর গাড়ী আর চলছে না। সদ্য সমাপ্ত বৃষ্টি শেষে স্যাঁতসেতে মাটির উপর দিয়ে বেড়ীবাঁধের কোল ঘেষে চললাম দূর্গম পথের অভিযাত্রীর ন্যায়। ক্লান্ত শরীর মোটেই সাহায্য করছে না হাত-পাঁ কে। তারপরও ভাবলাম আমার এই কষ্টের বিনিময়ে ২-৪টি পরিবার যদি কিছু খেতে পারে, ছোট বাচ্চাটির মুখে হাসি ফুটতে পারে এখানেই আমার স্বার্থকতা। কিছুক্ষণ পরই পৌঁছে গেলাম সেই বাড়ীতে।

কতটা অসহায় ও গরীব এরা যেন পদ্মা নদীর মাঝির গল্পকে হার মানিয়েছে এদের জীবন। আমাকে পেয়ে তারা কত যে মহাখুশি ভাষায় সেটা প্রকাশ করতে পারবনা। সবার হাতে খাবারের প্যাকেট ও হাতে কিছু নগদ টাকা গুঁজে দিলাম।
রাত ২.০০ টা অতিক্রম করে চলেছে। নিজ বাসার পথে চললাম।

আরো পড়ুন