খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু সর্বোচ্চ ৩৯ জনের

স্বীকৃতি বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পৃথিবীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে স্বজন হারানোর সংখ্যা প্রতিদিন গাণিতিক হারে বেড়েই চলছে।গত বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। সনাক্তের পর সাধারণ জনগণ মনে করেছিল করোনার সংক্রমণ ঢাকা বা শহর কেন্দ্রিক বেশী। কিন্তু সাধারণ জনগণের সে ধারণা বা বিশ্বাসকে ধূলায় মিশিয়ে দিয়েছে যখন থেকে গ্রামে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। আর তখন থেকে নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ গ্রামের মানুষের মাস্ক ব্যবহারে অনিহা,সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, অকারণে গ্রামের মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানের আড্ডা, নিয়মিত হ্যান্ডওয়াস না করা, সর্বোপরি সর্দি,কাশি,জ্বর হলেও সাধারণ ঋতু বৈচিত্রের অসুখ মনে করে করোনার পরীক্ষা না করানো।ফলে যখন শেষ মুহূর্তে এসে পৌঁছাচ্ছে তখন তারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধের বিষয়সমূহ ও পরীক্ষাসহ সঠিক চিকিৎসার অবহেলার চরম বর্হিঃপ্রকাশের কারণে গত কয়েকদিন যাবত করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা একের পর এক বেড়েই চলেছে।

আজ ২ জুলাই -২০২১ রোজ শুক্রবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ জন মৃত্যু বরণ করেছেন এবং একই সাথে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ২ শত ৪৫ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিপূর্বে ১৭ জুন ১৮ জন, ২০ জুন ২৮ জন২৩ জুন সর্বোচ্চ ৩২ জন,২৫ জুন ২৩ জন এবং ২৯ জুনও সর্বোচ্চ ৩২ জন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় খুলনায় ৮ জন, বাগেরহাটে ১ জন,যশোর ৭ জন, নড়াইলে ৩ জন, কুষ্টিয়ায় ৭ জন, মেহেরপুরে ৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২ জন, সাতক্ষীরায় ৪ জন, ঝিনাইদহে ৪ জনসহ ৯ জেলায় অদ্যাবধি সর্বোচ্চ ৩৯ জনের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য খুলনা বিভাগের একমাত্র জেলা মাগুরাতে মৃত্যুর কোন তথ্য নেই।
সংক্রমনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৭ হাজার ৫ শত ২০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে। করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৯ জন।মৃত্যুর হার ১.৭৫ শতাংশ।সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ৯ শত ৩০ জন।সুস্থতার হার ৯৮.২৫ শতাংশ।

খুলনা বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা সমূহে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে থাকার পরও জনগণের মধ্যে এখনও পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধি না হওয়ায় অতি সংক্রমণশীল ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার সংক্রমণ ও মৃত্যু রোধ করাটা যোজন যোজন দূরেই থেকে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন