কোয়েল তালুকদারের উপন্যাস “অপ্রাপণীয়া”

অনলাইন ডেস্কঃ

অপ্রাপণীয়া

কোয়েল তালুকদার…..

পৃথিবীর পথে পথে কত খুঁজেছি একজন মনের মানুষকে, কিন্তু মনের মতো মনের মানুষ কোথাও খুঁজে পাইনি। একবার অস্ট্রিয়ার একটি অজো গ্রামে গিয়েছিলাম। ওখানে ঐ জনপদে ভিন্ন প্রকৃতির, ভিন্ন জাতি সত্বার মানুষ বসবাস করে। তাদের নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের উপর কিছু উপাত্ত সংগ্রহ করাই আমার কাজ ছিল।

নদীর নাম মোরাভা।
ঠিক আমাদের ইছামতী নদীর মতো ছোট্ট একটি নদী বয়ে এসেছে কোথা থেকে, জানতাম না । পরে জেনেছি — নদীটির উৎপত্তি স্থল ছিল দানিয়ুব নদী। স্লোভাকিয়ার বুক চিরে ভেসে ভেসে এসেছে সে অস্ট্রিয়ার এই নির্জন সমতটে। স্লোভাক আর রোমার এই দুটি জাতি স্বত্বার সংমিশ্রণে বিবর্তিত নৃগোষ্ঠির মানুষেরা এখানে বসতি স্থাপন করেছিল ।

একটি গ্রাম্য বধু স্নান করে উঠে আসছিল ঘাট থেকে। দেখতে একদম বাঙালি রমণীর মতো লাগছিল । মেয়েটিকে দেখে মনে হয়েছিল — তাকে আমি এর আগে কোথায় যেন অনেক দেখেছি। আমি ওর কাছে যেয়ে কথা বলবার চেষ্টা করি। বলেছিলামও কথা ওর সাথে – ‘মেয়ে, তোমাকে আমি জন্মজন্মান্তর ধরে চিনি।’ কিন্তু ও আমার কথা কিছুই বোঝেনি।

ডরমেেটরীতে ফিরে আসার পর মন কিছুতেই ভালো লাগছিল না। বারবার মনে পড়ছিল ঐ মেয়েটির কথা। পরের দিন আবার গেলাম ওকে খুঁজতে। কিন্তু ওর কোনো দেখা পেলাম না। তারপরের দিন আবার যাই। সেদিনও দেখা পেলাম না। যেদিন ভিয়েনা ছেড়ে চলে আসব, তার আগের দিন আবার যাই ঐ জনপদে ছোট্ট ঐ স্বচ্ছতোয়া নদীটির তীরে। কত খুঁজেছি তাকে। একে ওকে কতজনকে জিজ্ঞাসা করেছি কেউ ওর খোঁজ দিতে পারেনি।

প্রায়ই ঐ মেয়েটির কথা মনে পড়ে। ওগো লক্ষ্মী মেয়ে! তুমি কী এখনও আছ সেখানে ? সুদীর্ঘ কত বছর চলে গেছে। আজও তুমি কি সেই নির্জন নদীর কূলে ভাঙা ঘাটে স্নান করতে আসো? তোমাকে খুব মনে পড়ে…তোমাকে আবার দেখতে বড়োই ইচ্ছে করে….. অনেক দূরের কোনো বনপাতার ঘরে তুমি কী প্রদীপ জ্বালাও মৌন সন্ধ্যায়? আবার যদি যাই, দেখা কী পাবো
তোমার?

উপন্যাসটি পাওয়া যাবে একুশের বইমেলায়।

স্টল নং ৫০৭
বাঙ্গালা গবেষণা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
টিএসসি গেট।

আরো পড়ুন