কোভিড-১৯ সংকট মোকাবেলায় প্রবাসীদের পাশে শারজা বাংলাদেশ সমিতি

আরব আমিরাত প্রতিনিধি

কোভিড- ১৯ প্রাদুর্ভাবে আমিরাতের শারজা,দুবাই, আজমান, উম্মুল কোয়েনে, লক ডাউনে আটকে পড়া ক্ষুদার্থ ও কর্মহীন শত শত প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশে এগিয়ে এসে প্রবাসীদের মাঝে আস্তা জাগিয়েছেন শারজা বাংলাদেশ সমিতি।

শাৱজায় অবস্থানরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীদেৱ জন্য এ সমিতি এখন মমতাময়ী মায়ের আঁচলে পরিণত হয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী খাদ্যসংকটে থাকলেও তাদের আস্থা ও পূর্ণ বিশ্বাস, সংকট সমাধানে নিজেদের ঠিকানা বাংলাদেশ সমিতি এগিয়ে এসেছেন আসবেই।

মানুষের মাঝে এই আত্মবিশ্বাস অর্জিত হওয়ার পিছনে যে বিষয়টি কাজ করেছে তা হচ্ছে বাংলাদেশ সমিতির কর্মকর্তাদের সমন্বয় , আন্তরিকতা এবং তৎপরতা।

কোভিট ১৯ শুরু হওয়ার প্রাক্কাল থেকে শাৱজা বাংলাদেশ সমিতির কর্মকর্তারা দূর্ভোগে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে থাকতে অত্যন্ত তৎপর ছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশ কনস্যুলেটেৱ কন্স্যাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খান সমিতিকে তৎপর রাখতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে।

ফলে কোভিট ১৯ এর দীর্ঘ প্রতিবন্ধকতায় পৱিকল্পিত ভাবে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে সমিতি সক্ষম হয়েছেন।

সূত্রে জানা যায় হঠাৎ করে যখন প্রবাসীৱা কর্মহীন হয়ে পড়েন তখনি বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি আবুল বাশার জরুরী সভা তলব করেন। এই জরুরী সভায় সমিতিৱ ইসি সদস্যদের থেকে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন তিনি।

এই কমিটির সদস্যরা হলেন মোহাম্মদ আবুল কালাম, ,মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, করিমুল হক, জাহাঙ্গীর আলম রুপু, মোঃ ইমাম হোসেন পারভেজ।

কমিটির সিদ্ধান্তনুযায়ী পৱে সমিতির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে ত্রান কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

বাংলাদেশ সমিতি শারজার সভাপতি আবুল বাশার জানান আমরা এ পর্যন্ত মোট ৩৫ জন সমিতির সদস্য / সদস্যা ও অনুদান দাতাদের কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে ধারাবাহিক সহয়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এই তৎপরতা শুধু শারজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা আজমান ,উম্মুল কোয়েন ও দুবাইয়ের কিছু কিছু জায়গায় সংকটাপণ্য প্রবাসীদের জন্য সহায়তা পাঠিয়েছি।

সংকটাপন্ন মানুষগুলোকে কিভাবে সহায়তা করা যায় এ ব্যাপারে দীর্ঘ পরিকল্পনাও আমরা হাতে নিয়েছি। তিনি বলেন আমরা চাইনা একটা মানুষও যেন না খেয়ে কষ্ট পায়।

সমিতির সভাপতি আরো বলেন প্রবাসী হিসেবে বাংলাদেশীদের সংখ্যা শারজায় অনেক বেশি। তাই এখানে খাদ্য সংকটও বেশি।ফলে আমাদের এই বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি সমিতির যেসব কর্মকর্তা এবং সদস্যরা প্রবাসীদের এ দূর্ভোগে এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

পাশাপাশি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খানের প্রতি। তিনি বলেন মান্যবর কনসাল জেনারেল আমাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ এবং উপদেশ দিয়ে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে রেখেছেন ।যার ফলে এ চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে আমরা নির্ভয়ে বুকে সাহস নিয়ে কাজ করে যেতে পারছি।

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় যে সব ব্যক্তিরা শারজা বাংলাদেশ সমিতির মাধ্যমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা হলেন সমিতির কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাশার, মোঃ ইসমাইল গনি্, সাহাদাত হোসেন, আবুল কালাম, করিমুল হক, শাহ মোঃ মাকসুদ, আবুল বাশার জুনিয়র, আলী হোসেন, মোহাম্মদ সালেহ আহমদ, হাজী আব্দুল করিম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, শেফালী আক্তার আখি, বদিউল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান, হাজী সেলিম,

আমিনুল হক, মোহাম্মদ তৈয়ব, জয়নাল আবেদীন, নুরুল কাদের, আনোয়ার হোসেন, জনতা ট্রেডিং, বাকেট হাইপার মার্কেট, বদরুল ইসলাম চৌধুরী, নুরুল আফসার, শহিদুল ইসলাম দিনু, জাহাঙ্গীর আলম, শওকত হোসেন, আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ আজম, আল মামুন, এরশাদ হসেন হিরো, মোহাম্মদ হোসেন, সেলিম রেজা, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

সমিতির সভাপতি আবুল বাসার বলেন আমরা ইতিমধ্যে ৩১৬ টি প্রবাসী পরিবার এবং ৬৬৭ জন ব্যাচেলর প্রবাসী বাংলাদেশীর মাঝে ১০.২৮০ কিলো পরিমান খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করেছি ।

তিনি বলেন সংকট দূর না হওয়া পর্যন্ত নির্বিকার প্রবাসীদের বাঁচানোর তাগিদে আমরা বাংলাদেশ সমিতি শারজা থেকে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ অব্যাহত রাখবো । আমি আশা করব এই দুর্যোগ মুহূর্তে নিরুপায় প্রবাসীদের বাঁচানোর তাগিদে বিত্তবান প্রবাসীরা এগিয়ে এসে বাংলাদেশ সমিতির এই কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সহায়তা করবেন।

আরো পড়ুন