করোনাকালে যশোরে চালু হলো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ হাট

স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ

গত বছর ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। সংক্রমণ শুরুর পর মহামারী করোনার সংক্রমণরোধ কল্পে বিভিন্ন সময় লকডাউন চলমান থাকায় লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবি মানুষ যেমন কর্মহীন হয়ে পড়ে ঠিক একইভাবে দেশের একটা বৃহৎ অংশ চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।

দেশের এমনই এক ক্রান্তিকালে করোনার মহামারী থেকে সকল ধরনের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২০ সালে গঠন করা হয় মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটি। এই কমিটির নিবেদিত প্রাণ সদস্যগণ গতবছর থেকে অদ্যাবধি কাজ করছেন মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আর তাই করোনার বিস্তাররোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,মাস্ক বিতরণ, টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা, করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা,টীকা রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করার ব্যবস্থা যেমন করেছেন তেমনি সকল প্রাণীর প্রতি ভালবাসার বর্হিপ্রকাশ হিসাবে বেওয়ারিশ পশুদের জন্য রান্না করে খাদ্য বিতরণ ও হতদরিদ্র মানুষদের জন্য কয়েক দফায় খাদ্যসহায়তা প্রদান করেন।

আর তাই দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে উপরে উল্লেখিত মানবিক সহায়তার পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ হিসাবে নিয়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মৈত্রী হাটের।
এ হাটে বাজারজাত দ্রব্যের প্যাকেজে আছে চাল ২ কেজি, ডাল হাফ কেজি , তেল হাফ লিটার, আটা ১ কেজি আলু ২ কেজি লবণ হাফ কেজি যার বাজারমূল্য ৩৩৫ টাকা। কিন্তু বিক্রয় করা হবে অর্ধেকেরও কম মূল্যে /১৫০ টাকায়।

আজ ০৯ আগস্ট রোজ সোমবার সকাল ১০ টার পূর্বে যশোর ইনস্টিটিউট মাঠে শুরু হয় এই বিশেষ হাট।ক্রেতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কিনে নেন খাদ্য সামগ্রীর বিশেষ প্যাকেজ। মৈত্রীর এই হাটে ক্রেতার অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় তৈরিকৃত ৩০০ প্যাকেট।ফলে অনেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না নিয়ে ফিরে গেলেও তাদের দেওয়া হয় টোকেন এবং আগামীকাল যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়।

আজকের হাটে যে ৩০০ জনের কাছে খাদ্য সামগ্রী বিক্রয় করা হয় তার মধ্যে নারী ক্রেতা ছিলেন ১৬৫ জন ও পুরুষ ক্রেতা ছিলেন ১৩৫ জন।
আজকের বিক্রিত ৩০০ প্যাকেটে খরচ হয় ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং বিক্রি করে আয় হয় ৪৫ হাজার টাকা। মৈত্রী সহায়তা কমিটির পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৬০ হাজার টাকা।
আজ থেকে শুরু হওয়া মৈত্রী হাটে কমদামে খাদ্যসামগ্রী বিক্রির কাজ চলবে আরও ছয় দিন।
উদ্যোক্তা ও মৈত্রী মানবিক সহায়ক কমিটির সদস্যসচিব মামুনুর রশিদ বলেন, করোনা মহামারিতে মানুষের মাঝে খাদ্য, ওষুধ, অক্সিজেন সেবা দিতে গিয়ে আমরা দেখেছি, শহরের অনেক মানুষ রয়েছেন- যারা মানুষের কাছে হাত পেতে ত্রাণ নিতে পারেন না। সেইসব মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্যেই আমাদের এই আয়োজন। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে আমাদের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দেশে ও দেশের বাইরে থাকা আমাদের সাবেক নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, সুহৃদ, স্বজন ও সাধারণ মানুষ এই আয়োজনে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন,মৈত্রী হাট শেষ হলে পরবর্তীতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিনামূল্যে একইভাবে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তাদের।

মৈত্রী হাটে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু, জিল্লুর রহমান ভিটু, শহিদুল হক বাদল, শাহীন ইকবাল, রুহুল আমীন, শেখ তরিকুল ইসলাম তারু, শেখ আলাউদ্দিন, কামাল হাসান পলাশ, সরোয়ার হোসেন, দিপঙ্কর বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, চন্দন বিশ্বাস, মঞ্জুরুল আলম, দীপ কামাল, শাহনেওয়াজ লেনিন, সানজিদা টুম্পা প্রমুখ।

আরো পড়ুন