করোনাকালের ময়নাতদন্ত! নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল

নিজস্ব প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাস! বলা হচ্ছে মহামারী! পর্যবেক্ষণ বলছে গত ৩০০ বছরে পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব মহামারী সংঘটিত হয়েছে! তার কোনটার সাথে মিল নাই এই করোণাভাইরাসের! এটা কি মানব সৃষ্ট নাকি প্রাকৃতিক এটা নিয়েও আছে অনেক বিতর্ক! করোনাভাইরাস এর জন্ম চীনের উহান থেকে! বিস্তার সমগ্র পৃথিবী! 

পৃথিবীর অতীতের মহামারী গুলো নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল! কিন্তু করোনাভাইরাস পৃথিবীর অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে পৃথিবীর প্রায় দেশের সীমান্ত রেখা অতিক্রম করেছে! যা ২১০ টি দেশের মানুষকে আক্রমণ করেছে! যে করোনাভাইরাস পৃথিবীর এতগুলো দেশের সীমান্ত রেখা অতিক্রম করেছে সেই করোনাভাইরাস কে লকডাউন দিয়ে কতটা প্রতিরোধ করা যাবে তা আমার কাছে বোধগম্য নয়! লকডাউনই যদি শেষ সমাধান হতো বিশ্ব পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না! তাই পৃথিবীর অনেক দেশ এখন লকডাউন এর বিকল্প অনুসন্ধান করছে… করোনাভাইরাসের কারণে পৃথিবীর প্রায় ১০০ কোটির বেশি মানুষকে পথে বসতে হবে! দেশে দেশে বাড়বে ভিক্ষাবৃত্তি! বেকার হয়ে পড়বেন পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ!
এই #করোনাভাইরাসে ১৭ মে পর্যন্ত পৃথিবীতে ৩ লাখ ১৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে!
মৃত্যুর মিছিল থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশও আর কত লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হলে করোনা ভাইরাস নিষ্পত্তি হবে তার কোনো সীমারেখা নেই!

একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের বিস্ময়কর জয় জয়কার উৎকর্ষে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিশ্ব!তবে আশার বাণী হচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত যেসব দেশ রয়েছে সেসব দেশে করোনা ভাইরাস প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি!
খালি চোখে দেখা যায় না অনু পরিমাণ করোণাভাইরাসের কাছে পৃথিবী এতটা অসহায় হবে একথা বিশ্বের কোন জ্যোতিষীও কল্পনা করেনি!

তাহলে বিজ্ঞান কি করছে ? বিজ্ঞান নাকি কোরআন! আলোচনা এবং গবেষণা চলছে বিশ্বব্যাপী! বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় পৃথিবীর মাটি জয় করে মঙ্গলে পা রাখার চিন্তা চলছে আর চাঁদের মাটিতে শহর নির্মাণের উদ্যোগ তো অনেক আগেই এগিয়েছে! আমরা মহাকাশ জয় করেছি তাই বলে পৃথিবীর সব গ্রহে বিচরণ করতে হবে এমন তো কোন কথা নেই! কেননা মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেছেন -তোমরা সীমালংঘন করো না আমি সীমালংঘনকারী কে পছন্দ করিনা ( আল কোরআন) চাঁদের মাটিতে শহর নির্মাণ আর মঙ্গলগ্রহে পা রাখার অভিযাত্রা হয়তো সৃষ্টিকর্তা পছন্দ করেননি!

কেননা পবিত্র কোরআনে বলা আছে স্পষ্ট ভাষায় চন্দ্র সূর্য এবং পৃথিবীর বাহিরে যত গ্রহ নক্ষত্র আছে সব গুলো পরিচালিত হয় একমাত্র সৃষ্টিকর্তার ইশারায়!

পৃথিবীর বড় বড় দেশে কতশত পরিত্যক্ত জায়গা থাকার পরও কেন আমাদের মঙ্গলের মাটির অনুসন্ধান করতে হলো? পৃথিবীর দেশে দেশে লাখ লাখ বেকার কর্মক্ষম মানুষ থাকার পরও কেন আমাদের কেন রোবট বানাতে হচ্ছে?
মানুষ হয়ে কেন আমরা রোবট এর পিছনে দৌড়াবে?
মহান আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন বিশেষ মর্যাদা আশরাফুল মাখলুকাত (সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে) মানুষের জন্য আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন! পাহাড় নদী সমতল তথা কীটপতঙ্গ বৃক্ষ সব কিছুই মানুষের উপযোগী করে সৃষ্টি করেছে ! মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেখানে নিজ হাতে মানুষকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন সেখানে মানুষ কেন মানুষ সৃষ্টি করতে যাবেন? এটা কি সীমালংঘন নয়?
মহান আল্লাহ পাক যা কোরআনে বলা হয়েছে বিজ্ঞানও স্বীকার করছেন! বিজ্ঞানের সাথে কোরআনের কোন সংঘর্ষ নেই। বরং বিজ্ঞান চর্চার সাথে কোরআন অনেকটাই পথপ্রদর্শক! পৃথিবীতে যে পরিমাণ মানুষ আছে তার দ্বিগুণ হতে আরো ১০০০ বছর লাগবে! অথচ প্রায় মানুষের হায়াত মাত্র ৬০ বছর থেকে ৯০ বছরের মধ্যে! তাহলে কি দরকার আমাদের পৃথিবীর ওপারে যাবার?
যেখানে দেশে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার আছে সেখানে কি দরকার পড়েছে রোবট তৈরি করার? শুধু তাই নয় পৃথিবীর বড় বড় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দেশগুলো অনেক বড় বড় পারমাণবিক বোমার মতো মারণাস্ত্র তৈরি করে পৃথিবী ধ্বংস করার পাঁয়তারা করে রেখেছেন অনেক আগেই! হয়তো এখানেও সীমালংঘন হয়েছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন নি! শুধু কি তাই! গত তিন দশকে মুসলিম বিশ্বের অনেকগুলোতে যুদ্ধ -যুদ্ধ খেলা শুরু করে পশ্চিমা বিশ্ব তাবৎ দুনিয়ার সামনে একটার পর একটা মুসলিম দেশ ধ্বংস করেছেন! ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন বাদ পড়েনি চৌদ্দশ বছরের ঐতিহ্য শহর সিরিয়াও!

পৃথিবী একটা দেশ অনেক! মানুষের চেহারা এবং ভাষার ভিন্নতা আছে কিন্তু অদ্ভুত ভাবে মিল আছে কেবল রক্তের রং! পৃথিবীতে কোন মানুষকে বাঁচানোর প্রয়োজনে যখন রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন কোন ধর্মের লোক সেটা দেখা হয় না! দেখা হয় রক্তের গ্রুপ!

একটা পৃথিবীতে একাধিক দেশ থাকলেও সৃষ্টিকর্তা কিন্তু একজনই এটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই! এই পৃথিবীতে ধর্ম বিশ্বাস করে না এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়! কিন্তু মানব সভ্যতার বিকাশের জন্য ধর্মই সর্ব শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

ধর্মীয় গ্রন্থ এবং পৃথিবীর পূর্ব ইতিহাস অবলোকন করে জানতে পেরেছি মহামারী কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না! কিন্তু কোন কোন সূত্রে প্রকাশ করোনা ভাইরাস অনেক দীর্ঘ হবে! ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি করোনা ভাইরাস অচিরেই তার কার্যকারিতা হারাবে ইনশাআল্লাহ, কেননা মহান আল্লাহ পাক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের কঠিন বিপদ সহ্য করেন না!

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলমানদের দুদিনের কথা বর্ণনা করাও কঠিন! গত ছয় মাস থেকে কারফিউ জারির ফলে সেখানকার মানুষ গৃহবন্দী হয়ে পড়েছিল, নিপীড়িত কাশ্মিরবাসীর দুঃখ-দুর্দশা বুঝার জন্য পৃথিবীর শক্তিধর রাষ্ট্রপ্রধানদের মাথা ব্যাথা ছিল না! আজকের করোনা পরিস্থিতির কারণে পৃথিবীর শক্তিধর দেশগুলো অনুধাবন করতে পারবে লকডাউন কি জিনিস! হয়তো এবার বিশ্ববাসী অনুধাবন করতে পারবেন কাশ্মীর, ইয়েমেন তথা সিরিয়াস নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের মর্মব্যথা! গত ১ দশকে পৃথিবীতে মানুষের প্রতি মানুষের অবিচারের সীমা কতটা লঙ্ঘিত তা পুনরায় বলার অপেক্ষা রাখে না! মানুষ যখন সীমা লঙ্ঘন করে তখন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই সেখানে সহায়ক হয়।

করোনাভাইরাস হয়তো পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় সৃষ্টিকর্তার কোন একটি অলৌকিক নিদর্শন নয়তো গজব! গত দুই দশকে পৃথিবীর কোন কোন দেশের মানুষের প্রতি মানুষ যে জুলুম অবিচার করেছে তা আর আরশে আজিমে কম্পন সৃষ্টি করেছে! তাই হয়তো করোনাভাইরাস গজব হিসেবে এসেছে আসমান থেকে!

মানুষের অসাধ্য কিছু নেই এটা এখন ভুল বলে প্রতীয়মান কেননা অনু পরিমান করুণা ভাইরাসের কাছে পৃথিবী আজ বড় অসহায়! করোনা পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য বিশ্ববাসী এক আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন দেশ ধর্ম ভাষা ভিন্ন -ভিন্ন হলেও পৃথিবীর সকল মানুষের প্রত্যাশা এখন এক ও অভিন্ন হয়ে গেছে! এটা থেকে প্রতীয়মান হয় সৃষ্টিকর্তা একজন এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।

তাই গর্ব অহংকার অহমিকা বাদ দিয়ে মানুষের এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে হবে সবার আগে! সকল ধর্মের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে বিশ্ব মোড়লদের।
যুদ্ধ নয় শান্তি, অহংকার নয় ভক্তি! এই বিশ্বাসের নতুন পৃথিবী বিনির্মাণ করতে হবে।

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল!

চট্টগ্রাম সমাজ চিন্তক ও প্রাবন্ধিক।

আরো পড়ুন