একজন আব্দুর রহমান ও বাউফলের কিছু অসাধু মানুষ 

আমজাদ হোসেন, ঢাকাঃ       
আব্দুর রহমান(২২)।পেশায় একজন ছাত্র ও মসজিদের ইমাম।পড়াশোনা করছেন সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।একাডেমিক সার্টিফিকেটে বয়স কম হলেও শরীরের গঠন দেখলে যে কেউই মনে করবে পয়ত্রিশ ছুঁই ছুঁই। ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের খানকা মসজিদে।গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলায়। ভোলায় বেড়াতে এসে তার এক বন্ধুর মাধ্যমেই এই মসজিদে আগমন তার।
আমি দীর্ঘদিন সেখানে যাওয়ার সুবাদে তার পিছনে নামাজ আদায় করেছি। আমার দেখা মতে দেশের বর্তমান সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মভিত্তিক যে অবস্থা চলছে সবকিছু থেকেই তিনি বিরত। তিনি পবিত্র কোরআনের আমল করেন,এলাকার মানুষদের সৎ উপদেশ দেন। আমার দেখা মতে তিনি সেখানকার অনেক বেনামাজি কে মসজিদ মুখো করেছেন, তার উপদেশে অনেক ধূমপায়ী বিড়ি সিগারেট ছেড়েছেন। কিছুদিন থেকেই সেখানকার শিশু কিংবা বিভিন্ন বয়সী মানুষের শারীরিক অসুস্থতার জন্য এলাকার লোকজন তার কাছে গেলে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরাহ পড়ে তাদের আমল বলে দিতেন।
তার ওয়াদা থাকতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় না করলে আমল কাজে আসবেনা। সে কথা অনুযায়ী যারা আমল নিতেন তার আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ হতেন। এভাবেই এলাকায় এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে তার সুনাম মানুষের কাছে প্রচারিত হতে থাকে।
এতক্ষণ বলেছি আব্দুর রহমানের কথা। এবার সেখানকার কথা না বললে আপনারা কি করে বুঝবেন! চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নটি বাউফল উপজেলা থেকে একটু বিচ্ছিন্ন এক ইউনিয়ন। চারপাশে তেঁতুলিয়া নদী থাকাতে সেখানের অনেক মানুষ ইলিশ আহরণ, ব্যবসা আবার কেউবা কৃষি ও বিভিন্ন চাকরির সাথে জড়িত।
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাছ মোল্লা তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাও। কিন্তু ইউনিয়নটিতে রাজনীতি ছাড়াও মানুষের মাঝে ধর্মীয় ভাবে কয়েকটি গ্রুপ। তাবলীগ জামাত দেশের সব জায়গায় আছে যারা একমাত্র আল্লাহ এবং তার রাসুলের কথায় বলে। আছেন চরমোনাই পীরের একটি অনুসারী, আর একটা হচ্ছে জৈনপুরী পীরের অনুসারী কিছু লোক।
এখন সেখানকার পরিস্থিতি এমন যে যখন বিভিন্ন এলাকা থেকে আমল নিতে মানুষজন ইমাম সাহেবের কাছে আসে, ঠিক তখনই জৌনপুরী পীরের ভক্তরা ইমামের বিরুদ্ধে নানাবিধ কথা বার্তা জৈনপুরী পীরের কাছে বলেছেন। তখন পীর সাহেব ইমামকে ফোন করে তার খানকা থেকে বেড়িয়ে যেতে বলেছেন। এরপর এলাকার মুসল্লীরা ইমামের জন্য আলাদা একটা থাকার ঘর তৈরি করে দিয়েছেন।
এখন সেখানকার কিছু কুচক্রী মহল তাকে এলাকা থেকে বিতারিত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা আজ বিকেলে উপজেলার প্রথম আলো পত্রিকার মিজান ভাই এবং বাচ্ছু ভাইকে খবর দিয়ে ইমামের কাছে এনেছেন। তারা তার ছবি, বক্তব্য এবং ভিডিও নিয়েছেন। আমি মিজান ভাইকে বলবো কারও কথায় প্রভাবিত না হয়ে বিষয়টি ভেবে দেখবেন। কারণ আমি ব্যক্তিগত ভাবেই তাকে চিনি। তিনি কারও ক্ষতি করছেন না, বরঞ্চ উপকৃতই হচ্ছেন এলাকার মানুষ।
আরো পড়ুন