অাজ স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস-

স্বীকৃতি বিশ্বাসঃ-

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী কর্তৃক অবৈধভাবে দখল করার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুল সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন এবং বাংলাদেশের সংবিধান রহিত করে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রীসভা বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে তিনি নিজকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে সামরিক আইনে জারিকৃত সব বিধিবিধান ও আদেশকে দেশের সর্বোচ্চ আইন হিসাবে ঘোষণা করেন।
ঐ বছর এরশাদের শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন। প্রণীত শিক্ষানীতিতে প্রথম শ্রেণী থেকে আরবি ও দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য মাপকাঠি করা হয় মেধা অথবা ৫০% ব্যয়ভার বহনের ক্ষমতা।

এটি নিয়ে সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি ছিলঃ ১. মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল,২. সব ছাত্র ও রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তিদান ও ৩. সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মিলিত হন এবং বাংলাদেশ সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন।মিছিলে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, জাল কামান ও গুলি বর্ষণ করে। যার ফলে জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন, দিপালীসহ বেশ কিছু শিক্ষার্থী নিহত হন এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত ও গ্রেফতারের শিকার হন।অবশ্য আন্দোলনের মুখে পরবর্তীতে শিক্ষানীতিটি স্থগিত করা হয়।
তখন থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারী দিনটিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

আরো পড়ুন