অভয়নগরে সহকারী প্রোগ্রামের কার্যক্রম সম্পর্কে নির্বাহী কর্মকর্তার অবহিতকরণ পত্র 

নিলয় ধর, যশোর প্রতিনিধি :-অভয়নগর উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচীর অফিস ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন।

(২৪ ডিসেম্বর) নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত (স্মারক সংখ্যা-০৫.৪৪.৪১০৪.০৪.০১১.০১৪.২০-১০২৪(৬) অবহিতকরণে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২০ পালন উপলক্ষে গত ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রস্ততিমূলক সভায় সহকারী প্রোগ্রামারকে সরকারি নির্দেশিকার আলোকে দিবসটি যথাযথ পালনের পরামর্শ দিলেও তিনি তা করেনি।

৭ ডিসেম্বর দুপুরে মোবাইল ফোনে ডিজিটাল দিবস পালনের প্রচার ব্রান্ডিং ও ব্যানার প্রস্তুত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু তিনি কোন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি।

করোনাকালিন সময় গত ১৩ ডিসেম্বর ৯৮৯নং স্মারকপত্রের মাধ্যমে অনলাইনে করোনায় আক্রান্ত রোগীর তালিকা সংগ্রহ করে তা নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র/কাউন্সিলর/ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করে রোগীর পরিবারকে লকডাউন বা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এই বিষয়ে তিনি কোন কার্যক্রম গ্রহণ করেননি।

এমনকি নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগও করেনি। (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক আইডিতে সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে তাঁকে ১৩ ডিসেম্বর (স্মারক- ৯৯১(৪) অবহিত করা হলেও তিনি তা করেননি।

এমনকি ওইদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি চলে যান। ১০ ডিসেম্বর (স্মারক- ৯৮৭(২৫) উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ, ইজিপিপি, জিআর চাল/ ক্যাশ ও ত্রাণ কার্যক্রমের ট্যাগ অফিসার মনোনয়ন করা হলে তিনি অনীহা প্রকাশ এবং মনগড়া মন্তব্য করতে শুরু করেন।

 

এছাড়া সহকারী প্রোগ্রামার গত (২২ ডিসেম্বর) তাঁর কার্যালয়ের ৫৬.০৪.৪১০৪.০০০.২৭.০০১.২০-২ নং স্মারকপত্রের মাধ্যমে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহাপরিচালক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর, ঢাকা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।লিখিত অভিযোগপত্রটি সহকারী প্রোগ্রামারদের ফেসবুক গ্রুপে আপলোড করেন। একইভাবে আপলোড করেন তাঁর স্বামী বুয়েটিয়ান-১০ ব্যাচের ফেসবুক গ্রুপে।

 

অভিযোগপত্রে যে কথাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মনগড়া যার কোন সত্যতা নেই। সহকারী প্রোগ্রামারকে সরকারি কাজের স্বার্থে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করা হলেও তিনি কখনই যথাযথভাবে পালন করেনি।

একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচীকে যথাযথ সম্মান প্রদান করা হয়। তাঁর সাথে কোনদিন কোন অসম্মানজনক আচরণ করা হয়নি। সরকারি দায়িত্ব অবহেলার কারণে তাকে ৩বার কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হলেও তিনি যথাযথ জবাব দাখিল করেননি।

 

ইতোমেধ্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে তাঁর সরকারি কাজের বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলে বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন এবং নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁনের উপর চাপিয়ে মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অবহিতকরণ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাজমুল হুসেইন খাঁন বলেছেন, পিআইও কর্মকর্তা সহকারী প্রোগ্রামারের সাথে যে আচরন করেছেন তা অন্যায়। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরো পড়ুন