অভয়নগরে ইউএনও ও পিআইওর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নিলয় ধর, যশোর প্রতিনিধি:- যশোরের অভয়নগর উপজেলার এক নারী কর্মকর্তাকে মানসিক নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগী নারী কর্মকর্তা নিজের সম্মান ও জীবনের নিরাপত্তায় প্রতিকার চেয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন। তারই প্রেক্ষিতে অভয়নগর উপজেলা থেকে ওই নারী কর্মকর্তাকে মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় বদলী করা হয়েছে। তবে বদলীর মাধ্যমে মূল ঘটনা যাতে ধামাচাপা না পড়ে সে জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের তদন্তপূর্বক অভিযোগের নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছে সচেতনমহল।
গত (২২ ডিসেম্বর) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ দাখিল করেন অভয়নগর উপজেলার ওই নারী কর্মচারী। যার স্মারক নং ৫৬.০৪.৪১০৪.০০০.২৭.০০১.২০-২। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন গত ৪ মার্চ তিনি অভয়নগর উপজলায় যোগদানের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসের নির্ধারিত সময়ের পর গভীররাত পর্যন্ত তাকে অফিসে থাকতে বাধ্য করতেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরিফ মোহাম্মদ রুবেলের মাধ্যমে কুপ্রস্তাব পাঠান। তাদের এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সর্বশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। যে কারণে তিনি সম্মান ও আত্মমর্যাদা নিয়ে চাকরি করতে মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ওই নারী বলেছেন, আমি খুলনা থেকে অফিস করতে আসতাম। আমার মা-বাবা আমাকে নিতে আসতেন। স্যার বলতেন, ওনাদের আসার কি দরকার? রাতে আকিজে সিট করে দিতে বলছি। পিআইও, আমরা সবাই একসাথে না হয় থাকলাম। পরে জানতে পেরেছি, আকিজ  কোম্পানীর পাশেই হোটেলসহ অনেক কিছুই আছে।
এ ধরনের অনেক নোংরা ইঙ্গিত করা হতো আমাকে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউএনও স্যারের হয়ে বলতেন- আমি কেন স্যারের হতাশা দূর করি না। এই হতাশা অন্য কোনো নারী মেটাতে পারে, স্ত্রী নয়। তিনি আরো বলেছেন, কাজের অজুহাতে আমাকে বিকেল ৫টার পরও অফিসে থাকতে বাধ্য করা হতো যখন অফিসে অন্য কেউ থাকতো না। গত ২২ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে আমি অফিস থেকে বের হচ্ছিলাম। সেসময় পিআইও সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, আগামীকালের জন্য একটা কাজ আজকেই করতে হবে। পাশে থেকে ইউএনও স্যার বলে দিচ্ছিলেন, দুপুর ১২টার মধ্যে লাগবে। আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে আমি কাজটা করবো। কিন্তু আমাকে একটা জনবল দেন। ওটাতো কম্পিউটার অপারেটরের কাজ। তখন পিআইও বললেন, ‘ওকে কাজ দেখালে হবে না। আপনাকেই করতে হবে। আমি কাজটি দ্রুত করার জন্য আবারো জনবল চাইলাম। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট করে আমাকে ছিড়ে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন তিনি খুলনার বড় রংবাজ। আমাকে দেখে নেবেন। কিছুক্ষণ পর ইউএনও স্যার পিআইওকে ফোন কেটে দিতে বললেন।
এরপর ৫টা ৩ মিনিটের দিকে ইউএনও স্যারের অফিস থেকে একজন লোক একটা চিঠি নিয়ে এসে বললেন, আপনাকে থাকতে হবে। আমি নিরুপায় হয়ে আমার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা অফিসের নির্ধারিত সময়ের পর চলে যাওয়ার কথা বলে। চলে আসার পর আবার পিআইও ফোন করে আমাকে মারপিট করাসহ প্রাণনাশ এবং অভয়নগরে না ঢোকার জন্যেও হুমকি দেন। ওই নারী কর্মচারী বললেন, ডিপার্টমেন্ট আমাকে সেফ করার জন্য বদলি করছে। তবে, আমি এর বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, ডিপার্টমেন্ট আমাকে সেফ করার জন্য বদলি করছে। তবে, আমি এর বিচার চাই। আমাকে কথা না বলতে এবং ফোন বন্ধ রাখতে চাপ দেয়া হচ্ছে। আমি চাপ উপেক্ষা করে ফোন খোলা রেখেছি। দুঃখ হয়, মেয়ের নিরাপত্তা চেয়ে আমার মা-বাবা থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তা নেয়নি।
তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি এর আগের স্টেশনে ইউএনও স্যারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ছিল।
এ বিষয়ে পিআইও শরিফ মোহাম্মদ রুবেল বলেন, কসম দিয়ে বলছি, কোনো কুপ্রস্তাব দেইনি। ওনাকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছেন ইউএনও স্যার। কাজ বুঝে নিতে চাইলে বুঝিয়ে দিতেন না। অফিস ফাঁকি দিতেন। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব শোনার পর আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। আমার স্ত্রী সন্তান আছে। উনি এভাবে হেয় না করলেও পারতেন।
ইউএনও নাজমুল হুসেইন খান বলেন, যোগদানের পর থেকেই সহকারী প্রোগ্রামার অফিসে সময় দিতেন না। সর্বশেষ তাকে ৪০ দিনের কর্মসৃজনের কাজে ট্যাগ অফিসার নির্ধারণ করা হয়। এতে তিনি ফাঁকি দিতে পারছিলেন না। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী ঘর দেয়ার প্রকল্পের একটি চিঠি দেয়ার শেষ দিন ছিল ২৩ ডিসেম্বর। ২২ ডিসেম্বর পিআইও তাকে ফোন দিয়েছিলেন। তাকে কাজটা করে দিতে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। কিন্তু ৫টা বাজায় তিনি অফিস ত্যাগ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ সময় উভয়ে কিছু আপত্তিকর কথা বলেছে। কিন্তু তিনি অডিও এডিট করে অপপ্রচার শুরু করেছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাকে জড়িয়েও আপত্তিকর অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, অভিযোগ শুনেছি। তদন্ত না করে কিছু বলা যাবে না। তদন্তে সত্যতা পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
আরো পড়ুন